Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের অভিযানে চাপাতিসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার Logo জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ: স্পিকার Logo ‘টয় স্টোরি ৫’-এ গান গাইতে যাচ্ছেন টেইলর সুইফট Logo ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৪ জন হামে আক্রান্ত, মোট মৃত্যু ২০ Logo ফরিদপুরের আলোচিত কণ্ঠশিল্পী লাইলি খাতুনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ Logo সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ Logo যাত্রাবাড়ী থানার অভিযানে গণধর্ষণ মামলার তিন আসামি গ্রেফতার Logo বিসিবি নির্বাচন নিয়ে জটিলতার অবসান, ৭ জুনই হচ্ছে ভোট Logo ফরিদপুরে ভাতিজাদের হাতুড়িপেটায় চাচা খুন: ঘটনাস্থলে এসপি Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মার্কিন ক্যালিফোর্নিয়ার এক মসজিদে বন্দুক হামলায় নিহত পাঁচজন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট এর সময় : ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ২৩ বার দেখা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের স্যান ডিয়েগো শহরের একটি ইসলামিক সেন্টারে দুই কিশোরের বন্দুক হামলায় অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে মসজিদের এক নিরাপত্তাকর্মীসহ তিনজন রয়েছেন। পরে হামলাকারী দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যাদের নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মেক্সিকো সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই ইসলামিক সেন্টারটি মূলত একটি ধর্মীয় স্কুল ও মসজিদের সমন্বিত কমপ্লেক্স। ঘটনার সময় সেখানে ক্লাস ও স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল। তবে হামলায় কোনো শিশু হতাহত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বিদ্বেষ থেকেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্তকারীরা এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে ইতোমধ্যে তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে।

স্যান ডিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াল বলেন, “প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আমাদের ধারণা, হামলার পর দুই কিশোর নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে।” তিনি আরও জানান, মসজিদের বাইরে একটি গাড়ি থেকে ১৭ ও ১৯ বছর বয়সী দুই হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক তাহা হাসান বলেন, “আমরা এর আগে কখনও এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হইনি। উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে হামলা সত্যিই ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক।” কয়েক দিনের মধ্যেই ঈদুল আজহা সামনে থাকায় এ ঘটনায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হামলার আগে একজন কিশোরের মা পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে তার ছেলে অস্ত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছে। এরপরই শুরু হয় এই সহিংসতা। তদন্তকারীরা একটি নোটও পেয়েছেন, যেখানে ঘৃণামূলক বক্তব্য ছিল বলে জানানো হয়েছে।

এফবিআই জানিয়েছে, ঘটনাটিকে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি এমন একটি স্থান যেখানে পরিবার ও শিশুরা শান্তিপূর্ণভাবে আসে। এখানে এমন সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে “ভয়াবহ পরিস্থিতি” বলে মন্তব্য করেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের অভিযানে চাপাতিসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

মার্কিন ক্যালিফোর্নিয়ার এক মসজিদে বন্দুক হামলায় নিহত পাঁচজন

আপডেট এর সময় : ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের স্যান ডিয়েগো শহরের একটি ইসলামিক সেন্টারে দুই কিশোরের বন্দুক হামলায় অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে মসজিদের এক নিরাপত্তাকর্মীসহ তিনজন রয়েছেন। পরে হামলাকারী দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যাদের নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মেক্সিকো সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই ইসলামিক সেন্টারটি মূলত একটি ধর্মীয় স্কুল ও মসজিদের সমন্বিত কমপ্লেক্স। ঘটনার সময় সেখানে ক্লাস ও স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল। তবে হামলায় কোনো শিশু হতাহত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বিদ্বেষ থেকেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্তকারীরা এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে ইতোমধ্যে তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে।

স্যান ডিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াল বলেন, “প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আমাদের ধারণা, হামলার পর দুই কিশোর নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে।” তিনি আরও জানান, মসজিদের বাইরে একটি গাড়ি থেকে ১৭ ও ১৯ বছর বয়সী দুই হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক তাহা হাসান বলেন, “আমরা এর আগে কখনও এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হইনি। উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে হামলা সত্যিই ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক।” কয়েক দিনের মধ্যেই ঈদুল আজহা সামনে থাকায় এ ঘটনায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হামলার আগে একজন কিশোরের মা পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে তার ছেলে অস্ত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছে। এরপরই শুরু হয় এই সহিংসতা। তদন্তকারীরা একটি নোটও পেয়েছেন, যেখানে ঘৃণামূলক বক্তব্য ছিল বলে জানানো হয়েছে।

এফবিআই জানিয়েছে, ঘটনাটিকে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি এমন একটি স্থান যেখানে পরিবার ও শিশুরা শান্তিপূর্ণভাবে আসে। এখানে এমন সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে “ভয়াবহ পরিস্থিতি” বলে মন্তব্য করেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।