Dhaka , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা Logo বহিষ্কৃত এমপির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসিতে জামায়াতের চিঠি Logo শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপিয়ের, উত্তেজনা তুঙ্গে Logo মুগদা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ জন গ্রেফতার Logo সেবামূলক কার্যক্রমে মানুষের আস্থার প্রতীক ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ Logo ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সরব শোবিজ অঙ্গন Logo সিআইএমএস ফরম পূরণ সপ্তাহে রামপুরা থানায় র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রথমবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, জবাব রাহুল গান্ধী ও সিপিআইয়ের

মার্কিন ক্যালিফোর্নিয়ার এক মসজিদে বন্দুক হামলায় নিহত পাঁচজন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট এর সময় : ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ৫১ বার দেখা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের স্যান ডিয়েগো শহরের একটি ইসলামিক সেন্টারে দুই কিশোরের বন্দুক হামলায় অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে মসজিদের এক নিরাপত্তাকর্মীসহ তিনজন রয়েছেন। পরে হামলাকারী দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যাদের নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মেক্সিকো সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই ইসলামিক সেন্টারটি মূলত একটি ধর্মীয় স্কুল ও মসজিদের সমন্বিত কমপ্লেক্স। ঘটনার সময় সেখানে ক্লাস ও স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল। তবে হামলায় কোনো শিশু হতাহত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বিদ্বেষ থেকেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্তকারীরা এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে ইতোমধ্যে তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে।

স্যান ডিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াল বলেন, “প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আমাদের ধারণা, হামলার পর দুই কিশোর নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে।” তিনি আরও জানান, মসজিদের বাইরে একটি গাড়ি থেকে ১৭ ও ১৯ বছর বয়সী দুই হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক তাহা হাসান বলেন, “আমরা এর আগে কখনও এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হইনি। উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে হামলা সত্যিই ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক।” কয়েক দিনের মধ্যেই ঈদুল আজহা সামনে থাকায় এ ঘটনায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হামলার আগে একজন কিশোরের মা পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে তার ছেলে অস্ত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছে। এরপরই শুরু হয় এই সহিংসতা। তদন্তকারীরা একটি নোটও পেয়েছেন, যেখানে ঘৃণামূলক বক্তব্য ছিল বলে জানানো হয়েছে।

এফবিআই জানিয়েছে, ঘটনাটিকে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি এমন একটি স্থান যেখানে পরিবার ও শিশুরা শান্তিপূর্ণভাবে আসে। এখানে এমন সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে “ভয়াবহ পরিস্থিতি” বলে মন্তব্য করেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা

মার্কিন ক্যালিফোর্নিয়ার এক মসজিদে বন্দুক হামলায় নিহত পাঁচজন

আপডেট এর সময় : ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের স্যান ডিয়েগো শহরের একটি ইসলামিক সেন্টারে দুই কিশোরের বন্দুক হামলায় অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে মসজিদের এক নিরাপত্তাকর্মীসহ তিনজন রয়েছেন। পরে হামলাকারী দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যাদের নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মেক্সিকো সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই ইসলামিক সেন্টারটি মূলত একটি ধর্মীয় স্কুল ও মসজিদের সমন্বিত কমপ্লেক্স। ঘটনার সময় সেখানে ক্লাস ও স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল। তবে হামলায় কোনো শিশু হতাহত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বিদ্বেষ থেকেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্তকারীরা এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে ইতোমধ্যে তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে।

স্যান ডিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াল বলেন, “প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আমাদের ধারণা, হামলার পর দুই কিশোর নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে।” তিনি আরও জানান, মসজিদের বাইরে একটি গাড়ি থেকে ১৭ ও ১৯ বছর বয়সী দুই হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক তাহা হাসান বলেন, “আমরা এর আগে কখনও এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হইনি। উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে হামলা সত্যিই ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক।” কয়েক দিনের মধ্যেই ঈদুল আজহা সামনে থাকায় এ ঘটনায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হামলার আগে একজন কিশোরের মা পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে তার ছেলে অস্ত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছে। এরপরই শুরু হয় এই সহিংসতা। তদন্তকারীরা একটি নোটও পেয়েছেন, যেখানে ঘৃণামূলক বক্তব্য ছিল বলে জানানো হয়েছে।

এফবিআই জানিয়েছে, ঘটনাটিকে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি এমন একটি স্থান যেখানে পরিবার ও শিশুরা শান্তিপূর্ণভাবে আসে। এখানে এমন সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে “ভয়াবহ পরিস্থিতি” বলে মন্তব্য করেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।