Dhaka , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা Logo বহিষ্কৃত এমপির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসিতে জামায়াতের চিঠি Logo শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপিয়ের, উত্তেজনা তুঙ্গে Logo মুগদা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ জন গ্রেফতার Logo সেবামূলক কার্যক্রমে মানুষের আস্থার প্রতীক ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ Logo ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সরব শোবিজ অঙ্গন Logo সিআইএমএস ফরম পূরণ সপ্তাহে রামপুরা থানায় র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রথমবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, জবাব রাহুল গান্ধী ও সিপিআইয়ের

মূল্যস্ফীতি টানা তিন মাস ৯ শতাংশের বেশি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট এর সময় : ০১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • ৩৫ বার দেখা হয়েছে

জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, গত জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পরে, অর্থাৎ ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি। এ ছাড়া টানা দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে।

 

আজ সোমবার জুন মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। বিবিএসের হিসাব অনুসারে, গত জুন মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। গ্রাম-শহরনির্বিশেষে সার্বিক মূল্যস্ফীতি এখন ৯ শতাংশের বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

গ্রাম ও শহর-উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ থেকে কমে জুনে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে। শহরাঞ্চলে তা ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে দুই ক্ষেত্রেই মূল্যস্ফীতির হার এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। অর্থাৎ বার্ষিক গড় হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমেছে, কিন্তু বাজারে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপ পুরোপুরি কাটেনি।

এদিকে মানুষের আয়ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না। জুন মাসে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা একই সময়ের মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক পরিবারকে খাদ্য, চিকিৎসা, পোশাক, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচন করতে হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার প্রভাব এখনো বাজারে রয়ে গেছে। এর ফলে কৃষিপণ্য, মাছ, মাংস, ভোজ্যতেলসহ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এ লক্ষ্যে ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামাল, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে বিভিন্ন করছাড়ের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু কর কমানো বা বাজেটে লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। এর জন্য বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দামের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং কার্যকর মুদ্রানীতির বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যথায় মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমবে না।

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা

মূল্যস্ফীতি টানা তিন মাস ৯ শতাংশের বেশি

আপডেট এর সময় : ০১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, গত জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পরে, অর্থাৎ ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি। এ ছাড়া টানা দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে।

 

আজ সোমবার জুন মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। বিবিএসের হিসাব অনুসারে, গত জুন মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। গ্রাম-শহরনির্বিশেষে সার্বিক মূল্যস্ফীতি এখন ৯ শতাংশের বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

গ্রাম ও শহর-উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ থেকে কমে জুনে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে। শহরাঞ্চলে তা ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে দুই ক্ষেত্রেই মূল্যস্ফীতির হার এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। অর্থাৎ বার্ষিক গড় হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমেছে, কিন্তু বাজারে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপ পুরোপুরি কাটেনি।

এদিকে মানুষের আয়ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না। জুন মাসে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা একই সময়ের মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক পরিবারকে খাদ্য, চিকিৎসা, পোশাক, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচন করতে হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার প্রভাব এখনো বাজারে রয়ে গেছে। এর ফলে কৃষিপণ্য, মাছ, মাংস, ভোজ্যতেলসহ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এ লক্ষ্যে ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামাল, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে বিভিন্ন করছাড়ের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু কর কমানো বা বাজেটে লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। এর জন্য বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দামের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং কার্যকর মুদ্রানীতির বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যথায় মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমবে না।