Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের অভিযানে চাপাতিসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার Logo জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ: স্পিকার Logo ‘টয় স্টোরি ৫’-এ গান গাইতে যাচ্ছেন টেইলর সুইফট Logo ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৪ জন হামে আক্রান্ত, মোট মৃত্যু ২০ Logo ফরিদপুরের আলোচিত কণ্ঠশিল্পী লাইলি খাতুনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ Logo সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ Logo যাত্রাবাড়ী থানার অভিযানে গণধর্ষণ মামলার তিন আসামি গ্রেফতার Logo বিসিবি নির্বাচন নিয়ে জটিলতার অবসান, ৭ জুনই হচ্ছে ভোট Logo ফরিদপুরে ভাতিজাদের হাতুড়িপেটায় চাচা খুন: ঘটনাস্থলে এসপি Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মামলা নিষ্পত্তির আগেই সচিবালয় বিলুপ্ত, অস্বস্তিতে সংশ্লিষ্ট মহল

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট এর সময় : ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • ২৫ বার দেখা হয়েছে

আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২০ মে) সকালে বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপিত হলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “এটি কীভাবে সম্ভব?”। এই ঘটনাকে ঘিরে আদালত কক্ষে তৈরি হয় নতুন বিতর্ক ও উত্তেজনা।

এর আগে আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়। একইসঙ্গে সেখানে কর্মরত ১৫ জন বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত বিষয়টি আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল।

এরও আগে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছিল। পরে সেটি বাতিল করে নতুন সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে হাইকোর্টের আগের রায়ে বলা হয়েছিল, তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করার সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো তা দাখিল হয়নি।

আদালতে বিষয়টি তুলে ধরেন রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির। তিনি বলেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সচিবালয় বিলুপ্ত করা আদালত অবমাননার শামিল। তিনি জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হবে।

শিশির মনির আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তার ভাষায়, “এটি শুধু অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।”

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিচার বিভাগের কাঠামো ও প্রশাসনিক ক্ষমতার ভারসাম্য। আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

এদিকে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পুরো ঘটনাটি এখন আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের অভিযানে চাপাতিসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

মামলা নিষ্পত্তির আগেই সচিবালয় বিলুপ্ত, অস্বস্তিতে সংশ্লিষ্ট মহল

আপডেট এর সময় : ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২০ মে) সকালে বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপিত হলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “এটি কীভাবে সম্ভব?”। এই ঘটনাকে ঘিরে আদালত কক্ষে তৈরি হয় নতুন বিতর্ক ও উত্তেজনা।

এর আগে আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়। একইসঙ্গে সেখানে কর্মরত ১৫ জন বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত বিষয়টি আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল।

এরও আগে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছিল। পরে সেটি বাতিল করে নতুন সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে হাইকোর্টের আগের রায়ে বলা হয়েছিল, তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করার সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো তা দাখিল হয়নি।

আদালতে বিষয়টি তুলে ধরেন রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির। তিনি বলেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সচিবালয় বিলুপ্ত করা আদালত অবমাননার শামিল। তিনি জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হবে।

শিশির মনির আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তার ভাষায়, “এটি শুধু অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।”

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিচার বিভাগের কাঠামো ও প্রশাসনিক ক্ষমতার ভারসাম্য। আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

এদিকে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পুরো ঘটনাটি এখন আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।