Dhaka , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা Logo বহিষ্কৃত এমপির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসিতে জামায়াতের চিঠি Logo শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপিয়ের, উত্তেজনা তুঙ্গে Logo মুগদা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ জন গ্রেফতার Logo সেবামূলক কার্যক্রমে মানুষের আস্থার প্রতীক ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ Logo ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সরব শোবিজ অঙ্গন Logo সিআইএমএস ফরম পূরণ সপ্তাহে রামপুরা থানায় র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রথমবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, জবাব রাহুল গান্ধী ও সিপিআইয়ের

মামলা নিষ্পত্তির আগেই সচিবালয় বিলুপ্ত, অস্বস্তিতে সংশ্লিষ্ট মহল

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট এর সময় : ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • ৬৪ বার দেখা হয়েছে

আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২০ মে) সকালে বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপিত হলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “এটি কীভাবে সম্ভব?”। এই ঘটনাকে ঘিরে আদালত কক্ষে তৈরি হয় নতুন বিতর্ক ও উত্তেজনা।

এর আগে আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়। একইসঙ্গে সেখানে কর্মরত ১৫ জন বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত বিষয়টি আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল।

এরও আগে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছিল। পরে সেটি বাতিল করে নতুন সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে হাইকোর্টের আগের রায়ে বলা হয়েছিল, তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করার সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো তা দাখিল হয়নি।

আদালতে বিষয়টি তুলে ধরেন রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির। তিনি বলেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সচিবালয় বিলুপ্ত করা আদালত অবমাননার শামিল। তিনি জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হবে।

শিশির মনির আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তার ভাষায়, “এটি শুধু অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।”

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিচার বিভাগের কাঠামো ও প্রশাসনিক ক্ষমতার ভারসাম্য। আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

এদিকে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পুরো ঘটনাটি এখন আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা

মামলা নিষ্পত্তির আগেই সচিবালয় বিলুপ্ত, অস্বস্তিতে সংশ্লিষ্ট মহল

আপডেট এর সময় : ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২০ মে) সকালে বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপিত হলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “এটি কীভাবে সম্ভব?”। এই ঘটনাকে ঘিরে আদালত কক্ষে তৈরি হয় নতুন বিতর্ক ও উত্তেজনা।

এর আগে আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়। একইসঙ্গে সেখানে কর্মরত ১৫ জন বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত বিষয়টি আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল।

এরও আগে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছিল। পরে সেটি বাতিল করে নতুন সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে হাইকোর্টের আগের রায়ে বলা হয়েছিল, তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করার সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো তা দাখিল হয়নি।

আদালতে বিষয়টি তুলে ধরেন রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির। তিনি বলেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সচিবালয় বিলুপ্ত করা আদালত অবমাননার শামিল। তিনি জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হবে।

শিশির মনির আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তার ভাষায়, “এটি শুধু অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।”

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিচার বিভাগের কাঠামো ও প্রশাসনিক ক্ষমতার ভারসাম্য। আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

এদিকে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পুরো ঘটনাটি এখন আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।