Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের অভিযানে চাপাতিসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার Logo জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ: স্পিকার Logo ‘টয় স্টোরি ৫’-এ গান গাইতে যাচ্ছেন টেইলর সুইফট Logo ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৪ জন হামে আক্রান্ত, মোট মৃত্যু ২০ Logo ফরিদপুরের আলোচিত কণ্ঠশিল্পী লাইলি খাতুনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ Logo সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ Logo যাত্রাবাড়ী থানার অভিযানে গণধর্ষণ মামলার তিন আসামি গ্রেফতার Logo বিসিবি নির্বাচন নিয়ে জটিলতার অবসান, ৭ জুনই হচ্ছে ভোট Logo ফরিদপুরে ভাতিজাদের হাতুড়িপেটায় চাচা খুন: ঘটনাস্থলে এসপি Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

পদ্মার পর এবার তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট এর সময় : ০১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • ২০ বার দেখা হয়েছে

দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি খাতকে শক্তিশালী করতে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি থামানো না গেলেও আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো সম্ভব।

বুধবার (২০ মে) গাজীপুরের টঙ্গীতে নবনির্মিত জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইউনিট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী ও খাল ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, পানি সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবহারের জন্য খাল খনন কর্মসূচি চলমান থাকবে। তিনি বলেন, “বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, না হলে ভবিষ্যতে পানির সংকট আরও ভয়াবহ হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর বাঁধ ও ব্যারাজ ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশে নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাচ্ছে, যা কৃষি ও পরিবেশের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। তার মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজস্ব ব্যারাজ প্রকল্প সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনায় এই দুই নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব দূর করতে এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ জোরদার করা হচ্ছে। প্রায় ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইউনিট ভবনের কাজ ২০২৮ সালের শুরুতে শেষ হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তালগাছ রোপণ করেন এবং একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। সরকারের লক্ষ্য টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষাকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই ঘোষণাকে দেশের পানি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবায়ন হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের অভিযানে চাপাতিসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

পদ্মার পর এবার তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট এর সময় : ০১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি খাতকে শক্তিশালী করতে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি থামানো না গেলেও আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো সম্ভব।

বুধবার (২০ মে) গাজীপুরের টঙ্গীতে নবনির্মিত জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইউনিট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী ও খাল ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, পানি সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবহারের জন্য খাল খনন কর্মসূচি চলমান থাকবে। তিনি বলেন, “বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, না হলে ভবিষ্যতে পানির সংকট আরও ভয়াবহ হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর বাঁধ ও ব্যারাজ ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশে নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাচ্ছে, যা কৃষি ও পরিবেশের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। তার মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজস্ব ব্যারাজ প্রকল্প সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনায় এই দুই নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব দূর করতে এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ জোরদার করা হচ্ছে। প্রায় ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইউনিট ভবনের কাজ ২০২৮ সালের শুরুতে শেষ হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তালগাছ রোপণ করেন এবং একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। সরকারের লক্ষ্য টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষাকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই ঘোষণাকে দেশের পানি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবায়ন হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।