Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের অভিযানে চাপাতিসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার Logo জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ: স্পিকার Logo ‘টয় স্টোরি ৫’-এ গান গাইতে যাচ্ছেন টেইলর সুইফট Logo ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৪ জন হামে আক্রান্ত, মোট মৃত্যু ২০ Logo ফরিদপুরের আলোচিত কণ্ঠশিল্পী লাইলি খাতুনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ Logo সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ Logo যাত্রাবাড়ী থানার অভিযানে গণধর্ষণ মামলার তিন আসামি গ্রেফতার Logo বিসিবি নির্বাচন নিয়ে জটিলতার অবসান, ৭ জুনই হচ্ছে ভোট Logo ফরিদপুরে ভাতিজাদের হাতুড়িপেটায় চাচা খুন: ঘটনাস্থলে এসপি Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সিলেটে অপরাধ জগতের অন্তরালে বাপ্পির ভয়ংকর ফাঁদ, স্বস্থি ফিরে পেয়েছে তোপখানাবাসী

বিগত আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর বেপরোয়া হয়ে উঠে ছিলো কিশোর গ্যাং এর হোতা আসাদুল আলম বাপ্পি। সুরমা নদী পার ঘেষা তোপখানা, কাজিরবাজার, সুরমা মার্কেট, ক্বিন ব্রিজ এলাকা ছিলো তার ত্রাস জগতের নৈরাজ্য। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি প্রতিনিয়ত ঘটতো ওই এলাকায়, আর এসব এর নেতৃত্ব দিতো বাপ্পি। তার বিরুদ্ধে থানায় রয়েছে একাধিক মামলা। পুলিশের খাতায়ও সে অপরাধী। মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের জন্য বাপ্পীর রয়েছে নিজস্ব সিন্ডিকেট। সেই সাথে রয়েছে তার কিশোর গ্যাং। পকেটে সব সময় ছোরা নিয়ে ঘুরে বেড়াত সে। তার জন্য নাজেহাল কাজীরবাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষজন।
সব অপরাধ ছাপিয়ে এবার বাপ্পী সিলেটে র‌্যাব সদস্য ইমন হত্যার দায়ে কারাবন্দি। ইমন আচার্য নিহতের ঘটনায় সুজিত আচার্য বাদী হয়ে শনিবার (২৩ মে ২০২৬ইং) এসএমপির কোতোয়ালি থানায় বাপ্পীকে প্রধান আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে, ঘাতক বাপ্পী নগরীর কাজিরবাজার এলাকার মোগলটুলা ২৪ নং বাসার বাসিন্দা ও ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেনের ছেলে।
জানা গেছে, আসাদুল আলম বাপ্পি ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সে পিতার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম করে আসছিলো। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় ধর্ষণ, ছিনতাই ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, বাপ্পী সিলেটের চিহ্নিত অপরাধী। সে মাদক ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ, ছিনতাই ও মাদকের চারটি মামলা রয়েছে। ইমন হত্যার দায় স্বীকার করে বাপ্পী আদালতের বিচারকের সামনে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে।
পুলিশ জানায় : শুক্রবার (২২ মে ২০২৬ই) নগরীর কিন ব্রিজ এলাকায় মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের ধাওয়া চলাকালে সাদা  পোশাকে থাকা র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসে আসাদুল আলম বাপ্পিকে ঝাপটে ধরেন। এসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাপ্পি ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমনের বুকের বাম পাশে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই বাপ্পিকে আটক করে পুলিশ এবং তার কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত বাপ্পি একটি এলাকায় বাসার ভেতরে ঢুকে এক শিশুর গলায় ছুরি ধরে জিম্মি করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের অভিযানে চাপাতিসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

সিলেটে অপরাধ জগতের অন্তরালে বাপ্পির ভয়ংকর ফাঁদ, স্বস্থি ফিরে পেয়েছে তোপখানাবাসী

আপডেট এর সময় : ০২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

বিগত আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর বেপরোয়া হয়ে উঠে ছিলো কিশোর গ্যাং এর হোতা আসাদুল আলম বাপ্পি। সুরমা নদী পার ঘেষা তোপখানা, কাজিরবাজার, সুরমা মার্কেট, ক্বিন ব্রিজ এলাকা ছিলো তার ত্রাস জগতের নৈরাজ্য। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি প্রতিনিয়ত ঘটতো ওই এলাকায়, আর এসব এর নেতৃত্ব দিতো বাপ্পি। তার বিরুদ্ধে থানায় রয়েছে একাধিক মামলা। পুলিশের খাতায়ও সে অপরাধী। মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের জন্য বাপ্পীর রয়েছে নিজস্ব সিন্ডিকেট। সেই সাথে রয়েছে তার কিশোর গ্যাং। পকেটে সব সময় ছোরা নিয়ে ঘুরে বেড়াত সে। তার জন্য নাজেহাল কাজীরবাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষজন।
সব অপরাধ ছাপিয়ে এবার বাপ্পী সিলেটে র‌্যাব সদস্য ইমন হত্যার দায়ে কারাবন্দি। ইমন আচার্য নিহতের ঘটনায় সুজিত আচার্য বাদী হয়ে শনিবার (২৩ মে ২০২৬ইং) এসএমপির কোতোয়ালি থানায় বাপ্পীকে প্রধান আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে, ঘাতক বাপ্পী নগরীর কাজিরবাজার এলাকার মোগলটুলা ২৪ নং বাসার বাসিন্দা ও ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেনের ছেলে।
জানা গেছে, আসাদুল আলম বাপ্পি ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সে পিতার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম করে আসছিলো। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় ধর্ষণ, ছিনতাই ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, বাপ্পী সিলেটের চিহ্নিত অপরাধী। সে মাদক ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ, ছিনতাই ও মাদকের চারটি মামলা রয়েছে। ইমন হত্যার দায় স্বীকার করে বাপ্পী আদালতের বিচারকের সামনে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে।
পুলিশ জানায় : শুক্রবার (২২ মে ২০২৬ই) নগরীর কিন ব্রিজ এলাকায় মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের ধাওয়া চলাকালে সাদা  পোশাকে থাকা র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসে আসাদুল আলম বাপ্পিকে ঝাপটে ধরেন। এসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাপ্পি ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমনের বুকের বাম পাশে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই বাপ্পিকে আটক করে পুলিশ এবং তার কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত বাপ্পি একটি এলাকায় বাসার ভেতরে ঢুকে এক শিশুর গলায় ছুরি ধরে জিম্মি করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।