ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে মো. ইমতিয়াজ আহমেদ প্রান্ত (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ আটকের পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ব্রেইন স্ট্রোক ও মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) সকাল সারে সাতটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত ইমতিয়াজ আহমেদ প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোন্দারদিয়া এলাকার মৃত ইস্কেন্দার হায়দারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তথ্যমতে, শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রান্তর কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারসহ তাঁকে আটক করা হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ”আটকের ঘণ্টা খানেক পর প্রান্ত হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোধ করেন এবং আমাদের কাছে তাঁর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে বলে জানান। পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত তাঁকে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।”
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহত প্রান্তর বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে মধুখালী থানায় একটি মাদক সংক্রান্ত মামলা হয়েছিল (মামলা নং- জিআর ৭২/১৬)। স্থানীয় কিছু সূত্রের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় মাদক সেবন করতে না পারায় ব্রেইন স্ট্রোকের শিকার হয়ে থাকতে পারেন।
এদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে আনার পর প্রান্তর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সিটিস্ক্যান করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সিটিস্ক্যান রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রান্ত গুরুতর ব্রেইন স্ট্রোকের শিকার হয়েছিলেন। তাঁর মস্তিষ্কে বড় ধরনের রক্তক্ষরণ (Cerebral Hemorrhage) হয়েছিল, যার ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা আরও নিশ্চিত করেছেন যে, নিহতের শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন বা নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়নি।
তবে ডিবি হেফাজতে মৃত্যুর এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ”মাদকবিরোধী অভিযানের সময় প্রান্তকে গাঁজাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছিল। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তিনি ব্রেইন স্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন। তারপরও হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উদ্ঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারব।”
এদিকে উক্ত ঘটনার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া। এই বিবৃতির বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বাবুল-এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ”আমরা জেনেছি গ্রেফতারকৃত আসামীর হার্ট অ্যাটাক জনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। এ ধরনের মৃত্যু তার নিজ বাড়িতেও ঘটতে পারত। তবে এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে সকল প্রশ্নের অবসান ঘটবে।”
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে পেলে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও যাবতীয় বিতর্কের অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ও সচেতন মহল।

প্রতিনিধির নাম: 





















