Dhaka , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা Logo বহিষ্কৃত এমপির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসিতে জামায়াতের চিঠি Logo শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপিয়ের, উত্তেজনা তুঙ্গে Logo মুগদা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ জন গ্রেফতার Logo সেবামূলক কার্যক্রমে মানুষের আস্থার প্রতীক ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ Logo ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সরব শোবিজ অঙ্গন Logo সিআইএমএস ফরম পূরণ সপ্তাহে রামপুরা থানায় র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রথমবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, জবাব রাহুল গান্ধী ও সিপিআইয়ের

ফরিদপুরে ঈদের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ৮ নং ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ভিজিএফ) চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

​শনিবার (২৩ মে) ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয়ে এই চাল বিতরণ করা হয়। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক সুবিধাভোগী অভিযোগ করেছেন, তাদের ওজনে বেশ কম চাল দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, উক্ত ইউনিয়নে এবার মোট ৫৫৫ জন সুবিধাভোগীর মাঝে এই ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছিল।

​স্থানীয় ও সুবিধাভোগীদের সূত্রে জানা যায়, কোনো রকম সঠিক পরিমাপ ছাড়াই বালতি ভরে চাল মেপে বিতরণ করা হচ্ছিল। উপস্থিত সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, ১০ কেজির পরিবর্তে তাদের ৯ কেজি ৫০০ গ্রাম করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

​এমনকি চাল নেওয়ার পর শ্রীরামদিয়া গ্রামের পরিমল মন্ডলের স্ত্রী জয়ন্তী রানী স্থানীয় একটি ডিজিটাল পাল্লায় তার চাল পুনরায় ওজন করে দেখেন। সেখানে ১০ কেজির পরিবর্তে ব্যাগে মাত্র ৯ কেজি ৩৯৬ গ্রাম চাল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, প্রতি বস্তা বা স্লিপে প্রায় ৬০০ গ্রামেরও বেশি চাল কম দেওয়া হয়েছে।

​চাল বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে সুবিধাভোগীদের স্লিপে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। তবে পরিষদে উপস্থিত থেকে প্রতিটি স্লিপে স্বাক্ষর করতে দেখা গেছে মহিলা ইউপি সদস্য সালমা জাহানকে।

​অনুপস্থিতির বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম বলেন:​”আমি দাওয়াত খাইতে একজায়গায় আইছি। ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি আছে, তারা থাইকা দিতেছে। তারা ১০ কেজি দিবে না ১১ কেজি দিবে তারা ভালো জানে।”

​চাল বিতরণে তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন অনিয়মের কথা আংশিক স্বীকার করে বলেন:​”আমি এসে দেখি ১০ কেজির জায়গায় ৪০০ গ্রাম কম। পরে বলছি ওজন করে ঠিক করে দিতে। আমি একটু বাহিরে গেছি, এসময় একটু অনিয়ম হতে পারে।”

​পবিত্র ঈদ উপলক্ষে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সরকার যেখানে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে, সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের এমন উদাসীনতা ও অনিয়মে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সঠিক ওজন নিশ্চিত করে স্বচ্ছতার মাধ্যমে সরকারি চাল বিতরণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা

ফরিদপুরে ঈদের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম

আপডেট এর সময় : ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ৮ নং ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ভিজিএফ) চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

​শনিবার (২৩ মে) ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয়ে এই চাল বিতরণ করা হয়। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক সুবিধাভোগী অভিযোগ করেছেন, তাদের ওজনে বেশ কম চাল দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, উক্ত ইউনিয়নে এবার মোট ৫৫৫ জন সুবিধাভোগীর মাঝে এই ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছিল।

​স্থানীয় ও সুবিধাভোগীদের সূত্রে জানা যায়, কোনো রকম সঠিক পরিমাপ ছাড়াই বালতি ভরে চাল মেপে বিতরণ করা হচ্ছিল। উপস্থিত সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, ১০ কেজির পরিবর্তে তাদের ৯ কেজি ৫০০ গ্রাম করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

​এমনকি চাল নেওয়ার পর শ্রীরামদিয়া গ্রামের পরিমল মন্ডলের স্ত্রী জয়ন্তী রানী স্থানীয় একটি ডিজিটাল পাল্লায় তার চাল পুনরায় ওজন করে দেখেন। সেখানে ১০ কেজির পরিবর্তে ব্যাগে মাত্র ৯ কেজি ৩৯৬ গ্রাম চাল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, প্রতি বস্তা বা স্লিপে প্রায় ৬০০ গ্রামেরও বেশি চাল কম দেওয়া হয়েছে।

​চাল বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে সুবিধাভোগীদের স্লিপে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। তবে পরিষদে উপস্থিত থেকে প্রতিটি স্লিপে স্বাক্ষর করতে দেখা গেছে মহিলা ইউপি সদস্য সালমা জাহানকে।

​অনুপস্থিতির বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম বলেন:​”আমি দাওয়াত খাইতে একজায়গায় আইছি। ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি আছে, তারা থাইকা দিতেছে। তারা ১০ কেজি দিবে না ১১ কেজি দিবে তারা ভালো জানে।”

​চাল বিতরণে তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন অনিয়মের কথা আংশিক স্বীকার করে বলেন:​”আমি এসে দেখি ১০ কেজির জায়গায় ৪০০ গ্রাম কম। পরে বলছি ওজন করে ঠিক করে দিতে। আমি একটু বাহিরে গেছি, এসময় একটু অনিয়ম হতে পারে।”

​পবিত্র ঈদ উপলক্ষে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সরকার যেখানে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে, সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের এমন উদাসীনতা ও অনিয়মে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সঠিক ওজন নিশ্চিত করে স্বচ্ছতার মাধ্যমে সরকারি চাল বিতরণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।