Dhaka , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা Logo বহিষ্কৃত এমপির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসিতে জামায়াতের চিঠি Logo শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপিয়ের, উত্তেজনা তুঙ্গে Logo মুগদা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ জন গ্রেফতার Logo সেবামূলক কার্যক্রমে মানুষের আস্থার প্রতীক ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ Logo ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সরব শোবিজ অঙ্গন Logo সিআইএমএস ফরম পূরণ সপ্তাহে রামপুরা থানায় র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রথমবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, জবাব রাহুল গান্ধী ও সিপিআইয়ের

আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দিনাজপুর কৃষি বিভাগের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট এর সময় : ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ২৯ বার দেখা হয়েছে

চলতি বছর আমন মৌসুমে ২ লাখ ৭২ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এই জেলায় ইতোমধ্যে ৫২০০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে।

আমন ধান চাষের এই ভরা মৌসুমে জেলার প্রত্যেকটি উপজেলায় কৃষকেরা আমন ধান চাষের জন্য বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দিনাজপুর কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, ২,৭২,২৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রস্তুত কৃষি বিভাগ। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কৃষকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে পর্যাপ্ত রাসায়নিক সার গুদামে মজুদ রেখেছে। বিএডিসির তালিকাভুক্ত জেলার ১৩টি উপজেলার ১২৬ জন রাসায়নিক সারের ডিলারদের গত ১০ জুলাই এর মধ্যেই তাদের চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া, ডিওপি, টিএসপি এবং এমওপি সার সরবরাহ করা হয়েছে। প্রত্যেক ডিলারের অধীনে ৩ জন করে সাব ডিলার রয়েছে। কৃষকদের আমন চাষে রাসায়নিক সারের কোন ধরনের ঘাটতি না হয়, এ জন্য বাজারে সারের অবাধ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসসকে বলেন, জেলায় চলতি বছর আমন চাষ মৌসুমে খরিপ-১, এ ২ লাখ ৭২ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭২০ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ২৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৯ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, প্রায় ৮ লাখ টন চাল।

তিনি বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে ভালো বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে রোপা আমন চাষে এবার কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করা যায়। গত ৫ জুলাই থেকে গতকাল শনিবার ১৮ জুলাই পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৫ হাজার ২শত হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আমন ধান রোপণ হয়েছে।

জানা যায়, রোপা আমন চাষের জন্য উপজেলাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দিনাজপুর সদর উপজেলায় ২৫ হাজার ৫২০ হেক্টর, বিরল উপজেলায় ২৪ হাজার ৭০০ হেক্টর, বোচাগঞ্জ উপজেলায় ১৭ হাজার ৮০০ হেক্টর, কাহারোল উপজেলায় ১৪ হাজার ৭০০ হেক্টর, বীরগঞ্জ উপজেলায় ২৪ হাজার ৬৫০ হেক্টর, খানসামা উপজেলায় ১৪ হাজার ৪০০ হেক্টর, চিরিরবন্দর উপজেলায় ২৪ হাজার ৯০০ হেক্টর, পার্বতীপুর উপজেলায় ২২ হাজার ৭৫০ হেক্টর, ফুলবাড়ী উপজেলায় ২৪ হাজার ২৫০ হেক্টর, বিরামপুর উপজেলায় ২৪ হাজার ২৫০ হেক্টর, নবাবগঞ্জ উপজেলায় ২৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর, হাকিমপুর উপজেলায় ১২ হাজার ৬৫০ সেক্টর এবং ঘোড়াঘাট উপজেলায় ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় চলতি আমন মৌসুমে রোপা আমন চাষ সফল করতে ১০ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। গত ইরি-বোরো মৌসুমে জেলায় বোরোর বাম্পার ফলন অর্জিত হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এবারে বোরো চাল উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। জেলায় বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হয়ে গেছে। কৃষকেরা এখন তাদের জমিতে রোপা আমন চাষের প্রস্তুতি শুরু করেছে। চলতি জুলাই মাসের প্রথম থেকেই জেলায় আগাম জাতের আমন ধান রোপণ কার্যক্রম কৃষকেরা শুরু করে দিয়েছে।

সূত্র জানায়, চলতি বছর আমন মৌসুমে বাম্পার আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও আমন ধান চাষের সুষ্ঠু পরিবেশ চলমান থাকলে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত জমিতে আমন ধান চাষ অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা

আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দিনাজপুর কৃষি বিভাগের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন

আপডেট এর সময় : ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

চলতি বছর আমন মৌসুমে ২ লাখ ৭২ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এই জেলায় ইতোমধ্যে ৫২০০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে।

আমন ধান চাষের এই ভরা মৌসুমে জেলার প্রত্যেকটি উপজেলায় কৃষকেরা আমন ধান চাষের জন্য বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দিনাজপুর কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, ২,৭২,২৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রস্তুত কৃষি বিভাগ। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কৃষকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে পর্যাপ্ত রাসায়নিক সার গুদামে মজুদ রেখেছে। বিএডিসির তালিকাভুক্ত জেলার ১৩টি উপজেলার ১২৬ জন রাসায়নিক সারের ডিলারদের গত ১০ জুলাই এর মধ্যেই তাদের চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া, ডিওপি, টিএসপি এবং এমওপি সার সরবরাহ করা হয়েছে। প্রত্যেক ডিলারের অধীনে ৩ জন করে সাব ডিলার রয়েছে। কৃষকদের আমন চাষে রাসায়নিক সারের কোন ধরনের ঘাটতি না হয়, এ জন্য বাজারে সারের অবাধ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসসকে বলেন, জেলায় চলতি বছর আমন চাষ মৌসুমে খরিপ-১, এ ২ লাখ ৭২ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭২০ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ২৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৯ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, প্রায় ৮ লাখ টন চাল।

তিনি বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে ভালো বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে রোপা আমন চাষে এবার কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করা যায়। গত ৫ জুলাই থেকে গতকাল শনিবার ১৮ জুলাই পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৫ হাজার ২শত হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আমন ধান রোপণ হয়েছে।

জানা যায়, রোপা আমন চাষের জন্য উপজেলাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দিনাজপুর সদর উপজেলায় ২৫ হাজার ৫২০ হেক্টর, বিরল উপজেলায় ২৪ হাজার ৭০০ হেক্টর, বোচাগঞ্জ উপজেলায় ১৭ হাজার ৮০০ হেক্টর, কাহারোল উপজেলায় ১৪ হাজার ৭০০ হেক্টর, বীরগঞ্জ উপজেলায় ২৪ হাজার ৬৫০ হেক্টর, খানসামা উপজেলায় ১৪ হাজার ৪০০ হেক্টর, চিরিরবন্দর উপজেলায় ২৪ হাজার ৯০০ হেক্টর, পার্বতীপুর উপজেলায় ২২ হাজার ৭৫০ হেক্টর, ফুলবাড়ী উপজেলায় ২৪ হাজার ২৫০ হেক্টর, বিরামপুর উপজেলায় ২৪ হাজার ২৫০ হেক্টর, নবাবগঞ্জ উপজেলায় ২৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর, হাকিমপুর উপজেলায় ১২ হাজার ৬৫০ সেক্টর এবং ঘোড়াঘাট উপজেলায় ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় চলতি আমন মৌসুমে রোপা আমন চাষ সফল করতে ১০ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। গত ইরি-বোরো মৌসুমে জেলায় বোরোর বাম্পার ফলন অর্জিত হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এবারে বোরো চাল উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। জেলায় বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হয়ে গেছে। কৃষকেরা এখন তাদের জমিতে রোপা আমন চাষের প্রস্তুতি শুরু করেছে। চলতি জুলাই মাসের প্রথম থেকেই জেলায় আগাম জাতের আমন ধান রোপণ কার্যক্রম কৃষকেরা শুরু করে দিয়েছে।

সূত্র জানায়, চলতি বছর আমন মৌসুমে বাম্পার আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও আমন ধান চাষের সুষ্ঠু পরিবেশ চলমান থাকলে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত জমিতে আমন ধান চাষ অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।