Dhaka , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা Logo বহিষ্কৃত এমপির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসিতে জামায়াতের চিঠি Logo শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপিয়ের, উত্তেজনা তুঙ্গে Logo মুগদা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ জন গ্রেফতার Logo সেবামূলক কার্যক্রমে মানুষের আস্থার প্রতীক ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ Logo ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সরব শোবিজ অঙ্গন Logo সিআইএমএস ফরম পূরণ সপ্তাহে রামপুরা থানায় র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রথমবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, জবাব রাহুল গান্ধী ও সিপিআইয়ের

বিদেশমুখী চিকিৎসা কমাতে চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা ফেরানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট এর সময় : ০২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ২৯ বার দেখা হয়েছে

দেশের মানুষ যেন উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী না হন, সে লক্ষ্যে চিকিৎসকদের আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। এই প্রবণতা কমাতে দেশের চিকিৎসকদের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও শক্তিশালী করতে হবে। শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে’ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্নও সামনে আসছে। তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের দেশের বহু মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন চিকিৎসা করাতে। তার ফলে আমাদের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাও সেই সঙ্গে চলে যাচ্ছে। কেন আমরা এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে পারব না? কেন আমাদের চিকিৎসকদের ওপর মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করতে পারব না?”

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন কেবল আইন করে সম্ভব নয়। “এটি কোনো প্রতিষ্ঠান দিয়ে করা যাবে না। এটি সম্ভব হবে চিকিৎসকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে।” তিনি দেশের সব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি রোগীদের আস্থা অর্জনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ জাতি শুধু হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে না। পারিবারিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী হবেন, যারা পরিবারভিত্তিক প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন। পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগেরও ঘোষণা দেন তিনি।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর করতে সরকার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কয়েকটি কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আগামী পাঁচ বছরে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চিকিৎসকগণই সত্যিকার অর্থে মানুষের বিপদের বন্ধু। একজন চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহার অনেক সময় ওষুধের মতোই কার্যকর হয়। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও একজন চিকিৎসকের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজকে দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন জাতীয় অধ্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঐতিহ্য ধরে রেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ভবিষ্যতে বিশ্বমানের গবেষণা, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ক্যাম্পাসে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা

বিদেশমুখী চিকিৎসা কমাতে চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা ফেরানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট এর সময় : ০২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

দেশের মানুষ যেন উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী না হন, সে লক্ষ্যে চিকিৎসকদের আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। এই প্রবণতা কমাতে দেশের চিকিৎসকদের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও শক্তিশালী করতে হবে। শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে’ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্নও সামনে আসছে। তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের দেশের বহু মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন চিকিৎসা করাতে। তার ফলে আমাদের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাও সেই সঙ্গে চলে যাচ্ছে। কেন আমরা এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে পারব না? কেন আমাদের চিকিৎসকদের ওপর মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করতে পারব না?”

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন কেবল আইন করে সম্ভব নয়। “এটি কোনো প্রতিষ্ঠান দিয়ে করা যাবে না। এটি সম্ভব হবে চিকিৎসকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে।” তিনি দেশের সব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি রোগীদের আস্থা অর্জনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ জাতি শুধু হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে না। পারিবারিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী হবেন, যারা পরিবারভিত্তিক প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন। পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগেরও ঘোষণা দেন তিনি।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর করতে সরকার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কয়েকটি কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আগামী পাঁচ বছরে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চিকিৎসকগণই সত্যিকার অর্থে মানুষের বিপদের বন্ধু। একজন চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহার অনেক সময় ওষুধের মতোই কার্যকর হয়। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও একজন চিকিৎসকের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজকে দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন জাতীয় অধ্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঐতিহ্য ধরে রেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ভবিষ্যতে বিশ্বমানের গবেষণা, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ক্যাম্পাসে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।