Dhaka , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা Logo বহিষ্কৃত এমপির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসিতে জামায়াতের চিঠি Logo শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপিয়ের, উত্তেজনা তুঙ্গে Logo মুগদা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ জন গ্রেফতার Logo সেবামূলক কার্যক্রমে মানুষের আস্থার প্রতীক ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ Logo ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সরব শোবিজ অঙ্গন Logo সিআইএমএস ফরম পূরণ সপ্তাহে রামপুরা থানায় র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রথমবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, জবাব রাহুল গান্ধী ও সিপিআইয়ের

বিশ্বকাপে মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সের আড়ালে চাপা পড়ছে পেনাল্টির পুরোনো দুর্বলতা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট এর সময় : ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৩২ বার দেখা হয়েছে

১০ বছর আগে কোপা আমেরিকার ফাইনালে পেনাল্টি শট আকাশে উড়িয়ে দিয়ে আর্জেন্টিনার শিরোপা হারানোর পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি।

এক দশক পরও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পেনাল্টি থেকে গোল করতে তাঁর সমস্যার অবসান হয়নি। তবে ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার পথে তাঁর ফুটবল-জাদু সেই দুর্বলতাকে অনেকটাই আড়াল করে দিচ্ছে।

আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ীর সর্বশেষ পেনাল্টি মিসে মঙ্গলবার শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। এর আগে ও পরে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিশর।

এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীডবারের মতো মেসির পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও তিনি পেনাল্টি বাইরে মেরেছিলেন। ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে একাধিক পেনাল্টি মিস করা একমাত্র খেলোয়াড় এখন মেসি।

এর আগে ২০১৮ সালে আইসল্যান্ড এবং চার বছর পর পোল্যান্ডের বিপক্ষেও পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি। বিশ্বকাপে মোট চারটি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার এই রেকর্ড অবশ্য তাঁর জন্য একেবারেই অনাকাঙ্খিত।

ক্যারিয়ারে পেনাল্টি থেকে তাঁর সাফল্যের হার ১৫০ প্রচেষ্টায় ১১৬ গোল, অর্থাৎ প্রায় ৭৭ শতাংশ- যা বৈশ্বিক গড়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে বিস্ময়ের কথা হলো, যিনি অন্য সব দিক থেকে মোটেও সাধারণ নন এমন একজন খেলোয়াগের ক্ষেত্রে এই দুর্বলতা মোটেও মানানসই নয় ।

২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করার পর ভেঙে পড়েছিলেন মেসি। অশ্রুসিক্ত অবস্থায় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও দেন তিনি।

সেই সময় পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে কোনও বড় শিরোপা জেতা হয়নি তাঁর। বার্সেলোনার হয়ে অসাধারণ সাফল্য পেলেও দেশের হয়ে দিয়েগো ম্যারাডোনার মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন তখনও অপূর্ণই ছিল।

তবে কয়েক মাসের মধ্যেই অবসরের সিদ্ধান্ত বদলে মাঠে ফেরেন তিনি। এক দশক পরে সেই সব সংশয় এখন অতীত। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা জিতেছে দুটি কোপা আমেরিকা এবং চার বছর আগে কাতারে বহু প্রতীক্ষিত তৃতীয় বিশ্বকাপ।

আটলান্টায় এবারও অশ্রু ঝরেছে, তবে সেগুলো ছিল আনন্দের। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পর আবেগে ভেসে যান মেসি। তাঁর বাড়ানো ক্রস থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেডে প্রথম গোলটি আসে, যা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের সূচনা করে।

এরপর নিজেই সমতাসূচক গোল করেন মেসি। টানা অষ্টম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি চলতি আসরে মাত্র পাঁচ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় আটটিতে।

শেষ আঘাতটি হানেন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে লিওনেল স্কালোনির দল শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে টিকে থাকে।

স্কালোনি বলেন, “বেঞ্চে থাকা ছেলেদের যারা অবাক হয়ে তাকে দেখছিল, তাদের বলবো ওকে আদর্শ হিসেবে নাও। এটা সত্যিই অসাধারণ।”

তিনি আরও বলেন, “ওর মানসিকতাটা দেখুন! পেনাল্টি মিস করার পর ও চাইলে ভেঙে পড়তে পারত, ভাবতে পারত, সব শেষ, আমরা ২-০ গোলে পিছিয়ে। কিন্তু তার বদলে সে আবার বল চাইল এবং লড়াই চালিয়ে গেল। সত্যি বলতে, এটা আমার শরীরে শিহরণ জাগায়। তবে শুধু মেসির কথা বললে হবে না। তাঁর সতীর্থরাও অসাধারণভাবে তাকে সমর্থন করেছে। এটাই এই দলের আসল পরিচয়।”

তবে নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে ও মিশরের মতো তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও আর্জেন্টিনার দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

স্কালোনির দল বারবার প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণে বিপাকে পড়েছে। অপেক্ষাকৃত বয়স্ক খেলোয়াড়ে ভরপুর এই দলে শক্তির ঘাটতিও চোখে পড়েছে।

সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড, আর জিতলে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবু মেসির হার না মানা মানসিকতা এবং আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে না দেওয়ার দৃঢ় সংকল্পই এখনও আশার আলো জ্বালিয়ে রেখেছে। যেন বিখ্যাত আকাশি-সাদা জার্সিতে আরও একটি, অর্থাৎ চতুর্থ বিশ্বকাপ তারকা যোগ করা যায়।

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা

বিশ্বকাপে মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সের আড়ালে চাপা পড়ছে পেনাল্টির পুরোনো দুর্বলতা

আপডেট এর সময় : ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

১০ বছর আগে কোপা আমেরিকার ফাইনালে পেনাল্টি শট আকাশে উড়িয়ে দিয়ে আর্জেন্টিনার শিরোপা হারানোর পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি।

এক দশক পরও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পেনাল্টি থেকে গোল করতে তাঁর সমস্যার অবসান হয়নি। তবে ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার পথে তাঁর ফুটবল-জাদু সেই দুর্বলতাকে অনেকটাই আড়াল করে দিচ্ছে।

আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ীর সর্বশেষ পেনাল্টি মিসে মঙ্গলবার শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। এর আগে ও পরে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিশর।

এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীডবারের মতো মেসির পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও তিনি পেনাল্টি বাইরে মেরেছিলেন। ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে একাধিক পেনাল্টি মিস করা একমাত্র খেলোয়াড় এখন মেসি।

এর আগে ২০১৮ সালে আইসল্যান্ড এবং চার বছর পর পোল্যান্ডের বিপক্ষেও পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি। বিশ্বকাপে মোট চারটি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার এই রেকর্ড অবশ্য তাঁর জন্য একেবারেই অনাকাঙ্খিত।

ক্যারিয়ারে পেনাল্টি থেকে তাঁর সাফল্যের হার ১৫০ প্রচেষ্টায় ১১৬ গোল, অর্থাৎ প্রায় ৭৭ শতাংশ- যা বৈশ্বিক গড়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে বিস্ময়ের কথা হলো, যিনি অন্য সব দিক থেকে মোটেও সাধারণ নন এমন একজন খেলোয়াগের ক্ষেত্রে এই দুর্বলতা মোটেও মানানসই নয় ।

২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করার পর ভেঙে পড়েছিলেন মেসি। অশ্রুসিক্ত অবস্থায় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও দেন তিনি।

সেই সময় পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে কোনও বড় শিরোপা জেতা হয়নি তাঁর। বার্সেলোনার হয়ে অসাধারণ সাফল্য পেলেও দেশের হয়ে দিয়েগো ম্যারাডোনার মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন তখনও অপূর্ণই ছিল।

তবে কয়েক মাসের মধ্যেই অবসরের সিদ্ধান্ত বদলে মাঠে ফেরেন তিনি। এক দশক পরে সেই সব সংশয় এখন অতীত। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা জিতেছে দুটি কোপা আমেরিকা এবং চার বছর আগে কাতারে বহু প্রতীক্ষিত তৃতীয় বিশ্বকাপ।

আটলান্টায় এবারও অশ্রু ঝরেছে, তবে সেগুলো ছিল আনন্দের। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পর আবেগে ভেসে যান মেসি। তাঁর বাড়ানো ক্রস থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেডে প্রথম গোলটি আসে, যা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের সূচনা করে।

এরপর নিজেই সমতাসূচক গোল করেন মেসি। টানা অষ্টম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি চলতি আসরে মাত্র পাঁচ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় আটটিতে।

শেষ আঘাতটি হানেন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে লিওনেল স্কালোনির দল শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে টিকে থাকে।

স্কালোনি বলেন, “বেঞ্চে থাকা ছেলেদের যারা অবাক হয়ে তাকে দেখছিল, তাদের বলবো ওকে আদর্শ হিসেবে নাও। এটা সত্যিই অসাধারণ।”

তিনি আরও বলেন, “ওর মানসিকতাটা দেখুন! পেনাল্টি মিস করার পর ও চাইলে ভেঙে পড়তে পারত, ভাবতে পারত, সব শেষ, আমরা ২-০ গোলে পিছিয়ে। কিন্তু তার বদলে সে আবার বল চাইল এবং লড়াই চালিয়ে গেল। সত্যি বলতে, এটা আমার শরীরে শিহরণ জাগায়। তবে শুধু মেসির কথা বললে হবে না। তাঁর সতীর্থরাও অসাধারণভাবে তাকে সমর্থন করেছে। এটাই এই দলের আসল পরিচয়।”

তবে নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে ও মিশরের মতো তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও আর্জেন্টিনার দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

স্কালোনির দল বারবার প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণে বিপাকে পড়েছে। অপেক্ষাকৃত বয়স্ক খেলোয়াড়ে ভরপুর এই দলে শক্তির ঘাটতিও চোখে পড়েছে।

সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড, আর জিতলে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবু মেসির হার না মানা মানসিকতা এবং আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে না দেওয়ার দৃঢ় সংকল্পই এখনও আশার আলো জ্বালিয়ে রেখেছে। যেন বিখ্যাত আকাশি-সাদা জার্সিতে আরও একটি, অর্থাৎ চতুর্থ বিশ্বকাপ তারকা যোগ করা যায়।