ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার ও বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় সাংবাদিক, পুলিশ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় ৫ ঘণ্টা যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ভাঙ্গার মানিকদাহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর এবং হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১টি গ্রামের সাথে মানিকদহ ইউনিয়নের পুকুরিয়া মৌজার ৫টি গ্রামের বাসিন্দারা মুখোমুখি অবস্থানে ছিল।
শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় মহেশ্বরদী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কালাম পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে বেধড়ক মারধর করে। এ ঘটনার জের ধরে রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রামের শত শত মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে চড়াও হলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উভয় পক্ষ পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে উত্তেজিত গ্রামবাসী ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষ চলতে থাকে।
প্রায় ৫ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের সবার নাম-পরিচয় জানা না গেলেও তাদের মধ্যে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া সাংবাদিক এবং পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে আহত হওয়া পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন জানান: ”শত শত গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে দুপুরের পর মহাসড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।”
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পুলিশি তৎপরতায় দুপুর দেড়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে পুলিশ জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে।

অনলাইন ডেস্ক 









