Dhaka , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা Logo বহিষ্কৃত এমপির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসিতে জামায়াতের চিঠি Logo শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপিয়ের, উত্তেজনা তুঙ্গে Logo মুগদা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ জন গ্রেফতার Logo সেবামূলক কার্যক্রমে মানুষের আস্থার প্রতীক ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ Logo ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সরব শোবিজ অঙ্গন Logo সিআইএমএস ফরম পূরণ সপ্তাহে রামপুরা থানায় র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রথমবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, জবাব রাহুল গান্ধী ও সিপিআইয়ের

তারল্য সংকটে ইসলামী ব্যাংক, ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সহায়তা বাংলাদেশ ব্যাংকের

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট এর সময় : ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৪৭ বার দেখা হয়েছে

গ্রাহকদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলন এবং তারল্য সংকটের চাপে থাকা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার (১৪ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ অর্থ ছাড় করে। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শাখা ও এটিএমে নগদ অর্থের চাহিদা স্বাভাবিক রাখতে এবং গ্রাহকদের লেনদেন নির্বিঘ্ন করতে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ঈদের পর ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যেই ব্যাংকটিতে আমানত উত্তোলনের চাপ বাড়তে থাকে। ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে একদল গ্রাহকের আন্দোলনের পাশাপাশি অনেক আমানতকারী তাদের জমা অর্থ তুলে নেওয়ায় ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে।

ব্যাংক সূত্র জানায়, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহ এবং দৈনন্দিন লেনদেন চালিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল প্রতিষ্ঠানটিকে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকে বাধ্যতামূলক নগদ জমা সংরক্ষণ, সিআরআর বজায় রাখতেও সমস্যায় পড়ে ব্যাংকটি। এমন পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চাওয়া হয়।

সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রথম ধাপে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এই অর্থের মাধ্যমে শাখা ও এটিএম নেটওয়ার্কে নগদ অর্থের সরবরাহ বাড়িয়ে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সংকট নিয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন। তিনি বলেন, “ইসলামী ব্যাংকের সংকট দ্রুত কেটে যাবে। আমানতকারীদের টাকা তুলতে সমস্যা হবে না। প্রয়োজনে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে।”

গভর্নরের সেই আশ্বাসের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিশেষ সহায়তাকে ইসলামী ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংক খাতের চলমান পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও সহায়তার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যাতে গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত না হয়।

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা

তারল্য সংকটে ইসলামী ব্যাংক, ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সহায়তা বাংলাদেশ ব্যাংকের

আপডেট এর সময় : ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

গ্রাহকদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলন এবং তারল্য সংকটের চাপে থাকা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার (১৪ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ অর্থ ছাড় করে। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শাখা ও এটিএমে নগদ অর্থের চাহিদা স্বাভাবিক রাখতে এবং গ্রাহকদের লেনদেন নির্বিঘ্ন করতে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ঈদের পর ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যেই ব্যাংকটিতে আমানত উত্তোলনের চাপ বাড়তে থাকে। ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে একদল গ্রাহকের আন্দোলনের পাশাপাশি অনেক আমানতকারী তাদের জমা অর্থ তুলে নেওয়ায় ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে।

ব্যাংক সূত্র জানায়, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহ এবং দৈনন্দিন লেনদেন চালিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল প্রতিষ্ঠানটিকে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকে বাধ্যতামূলক নগদ জমা সংরক্ষণ, সিআরআর বজায় রাখতেও সমস্যায় পড়ে ব্যাংকটি। এমন পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চাওয়া হয়।

সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রথম ধাপে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এই অর্থের মাধ্যমে শাখা ও এটিএম নেটওয়ার্কে নগদ অর্থের সরবরাহ বাড়িয়ে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সংকট নিয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন। তিনি বলেন, “ইসলামী ব্যাংকের সংকট দ্রুত কেটে যাবে। আমানতকারীদের টাকা তুলতে সমস্যা হবে না। প্রয়োজনে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে।”

গভর্নরের সেই আশ্বাসের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিশেষ সহায়তাকে ইসলামী ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংক খাতের চলমান পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও সহায়তার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যাতে গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত না হয়।