Dhaka , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা Logo বহিষ্কৃত এমপির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসিতে জামায়াতের চিঠি Logo শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপিয়ের, উত্তেজনা তুঙ্গে Logo মুগদা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ জন গ্রেফতার Logo সেবামূলক কার্যক্রমে মানুষের আস্থার প্রতীক ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ Logo ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সরব শোবিজ অঙ্গন Logo সিআইএমএস ফরম পূরণ সপ্তাহে রামপুরা থানায় র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রথমবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, জবাব রাহুল গান্ধী ও সিপিআইয়ের

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে নতুন ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট এর সময় : ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • ৪৬ বার দেখা হয়েছে

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ের জন্ম দিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো দলের বিপক্ষে টানা চারটি টেস্ট জয়ের কীর্তিও গড়ল বাংলাদেশ।

বুধবার (২০ মে) পঞ্চম দিনের শুরুতে পাকিস্তানের হাতে ছিল তিন উইকেট, আর জয়ের জন্য দরকার ছিল ১২১ রান। ক্রিজে ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। একপর্যায়ে এই জুটি বাংলাদেশের শিবিরে চাপও তৈরি করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতেই ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের প্রতিরোধ।

চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলেই জয়ের ভিত গড়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিল। সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ১৩৪ রানের জুটি ম্যাচে নতুন উত্তেজনা ছড়ায়। তবে নতুন বল হাতে নিয়ে আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। সালমানকে ফেরানোর পর হাসান আলীকেও তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তিনি।

পঞ্চম দিনের সকালে বৃষ্টি থামার পর খেলা শুরু হয় কিছুটা দেরিতে। শুরুতেই সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। নাহিদ রানার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন রিজওয়ান। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ সেই কঠিন ক্যাচটি নিতে পারেননি। এরপর সাজিদ খানকে নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটার।

তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আবারও সামনে আসেন তাইজুল। ৯৫.২ ওভারে সাজিদ খানকে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানিয়ে ভাঙেন ৫৪ রানের জুটি। এই উইকেটের মধ্য দিয়েই টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৮তম পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। সাজিদ ৩৬ বলে ২৮ রান করেন।

এর পরের ওভারেই ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরে যায়। শরিফুল ইসলামের বলে গালিতে ক্যাচ দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। শতকের খুব কাছে গিয়ে ১৬৬ বলে ৯৪ রান করে ফিরতে হয় তাকে। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার।

শেষ উইকেটটিও তুলে নেন তাইজুল ইসলাম। খুররাম শাহজাদকে আউট করে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস থামিয়ে দেন ৩৫৮ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২০ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন এই বাঁহাতি স্পিনার। দুটি উইকেট পান নাহিদ রানা। একটি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

এর আগে ম্যাচে প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের ১২৬ রানে বাংলাদেশ করে ২৭৮ রান। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ২৩২ রানে। ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ তোলে ৩৯০ রান। মুশফিকুর রহিম খেলেন ১৩৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ফলে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৩৭ রানের কঠিন লক্ষ্য।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজও জিতল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তিও গড়ল টাইগাররা।

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে নতুন ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ

আপডেট এর সময় : ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ের জন্ম দিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো দলের বিপক্ষে টানা চারটি টেস্ট জয়ের কীর্তিও গড়ল বাংলাদেশ।

বুধবার (২০ মে) পঞ্চম দিনের শুরুতে পাকিস্তানের হাতে ছিল তিন উইকেট, আর জয়ের জন্য দরকার ছিল ১২১ রান। ক্রিজে ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। একপর্যায়ে এই জুটি বাংলাদেশের শিবিরে চাপও তৈরি করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতেই ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের প্রতিরোধ।

চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলেই জয়ের ভিত গড়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিল। সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ১৩৪ রানের জুটি ম্যাচে নতুন উত্তেজনা ছড়ায়। তবে নতুন বল হাতে নিয়ে আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। সালমানকে ফেরানোর পর হাসান আলীকেও তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তিনি।

পঞ্চম দিনের সকালে বৃষ্টি থামার পর খেলা শুরু হয় কিছুটা দেরিতে। শুরুতেই সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। নাহিদ রানার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন রিজওয়ান। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ সেই কঠিন ক্যাচটি নিতে পারেননি। এরপর সাজিদ খানকে নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটার।

তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আবারও সামনে আসেন তাইজুল। ৯৫.২ ওভারে সাজিদ খানকে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানিয়ে ভাঙেন ৫৪ রানের জুটি। এই উইকেটের মধ্য দিয়েই টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৮তম পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। সাজিদ ৩৬ বলে ২৮ রান করেন।

এর পরের ওভারেই ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরে যায়। শরিফুল ইসলামের বলে গালিতে ক্যাচ দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। শতকের খুব কাছে গিয়ে ১৬৬ বলে ৯৪ রান করে ফিরতে হয় তাকে। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার।

শেষ উইকেটটিও তুলে নেন তাইজুল ইসলাম। খুররাম শাহজাদকে আউট করে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস থামিয়ে দেন ৩৫৮ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২০ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন এই বাঁহাতি স্পিনার। দুটি উইকেট পান নাহিদ রানা। একটি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

এর আগে ম্যাচে প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের ১২৬ রানে বাংলাদেশ করে ২৭৮ রান। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ২৩২ রানে। ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ তোলে ৩৯০ রান। মুশফিকুর রহিম খেলেন ১৩৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ফলে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৩৭ রানের কঠিন লক্ষ্য।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজও জিতল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তিও গড়ল টাইগাররা।