Dhaka , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা Logo বহিষ্কৃত এমপির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসিতে জামায়াতের চিঠি Logo শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপিয়ের, উত্তেজনা তুঙ্গে Logo মুগদা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ জন গ্রেফতার Logo সেবামূলক কার্যক্রমে মানুষের আস্থার প্রতীক ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ Logo ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সরব শোবিজ অঙ্গন Logo সিআইএমএস ফরম পূরণ সপ্তাহে রামপুরা থানায় র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রথমবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, জবাব রাহুল গান্ধী ও সিপিআইয়ের

প্রায় ৪২ কোটি টাকার কৃষিঋণ থেকে মুক্তি পেলেন খুলনা বিভাগের কৃষকরা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট এর সময় : ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ২৯ বার দেখা হয়েছে

খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫৬ হাজার ৭৪৮ জন কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফ করা হচ্ছে। এছাড়া ঋণের অর্থ পরিশোধ না করায় যাদের নামে আদালতে মামলা হয়েছিল, তাদের মামলাও তুলে নেওয়া হয়েছে। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার মোতাবেক এসব ঋণ মওকুফ করা হচ্ছে।

কৃষি ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, কৃষি ঋণ মওকুফের আওতায় এসেছে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৫৬ হাজার ৭৪৮ জন। তাদের ঋণের অর্থের পরিমাণ ৪১ কোটি ৭৯ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকা। এর মধ্যে খুলনা মহানগর ও জেলার ১১ থানা ও উপজেলা এলাকায় ৬ হাজার ৭৬৭ জন কৃষকের ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৫.৯ টাকা মওকুফের আওতায় আনা হয়েছে।

নির্বাচনকালীন সময় পর্যন্ত যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ ছিল, তারা এই মওকুফের আওতায় এসেছে।

কৃষি ব্যাংক খুলনা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ঋণ গ্রহীতাদের মওকুফের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঋণের অর্থ পরিশোধ না করায় যাদের নামে আদালতে মামলা হয়েছিল, তাদের মামলাও তুলে নেওয়া হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় কৃষি ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এ ব্যাংকের জোনাল অফিসের আওতায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইল জেলায় ৩০ হাজার ২৪৮ জন কৃষককে ঋণ মওকুফের আওতায় আনা হয়েছে। যার অর্থের পরিমাণ ২১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

কৃষি ব্যাংক খুলনা জেলা অফিসের তথ্যমতে, খুলনা মহানগর ও জেলার ১১ থানা ও উপজেলা এলাকায় ৬ হাজার ৭৬৭ জন কৃষকের ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৫ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এরমধ্যে বটিয়াঘাটায় ১৮৩ জনের ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৫.৫ টাকা, দাকোপে ২৩৭ জনের ১৮ লাখ ১১ হাজার ৫৮ টাকা, দৌলতপুরে ৮৭ জনের ৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৫৫ টাকা, দিঘলিয়ায় ২২৮ জনের ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৮ টাকা, ডুমুরিয়ায় ২ হাজার ৭১১ জনের ১ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৫৫ টাকা, ফুলতলায় ৬৭৩ জনের ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩৩ টাকা, কয়রায় ১ হাজার ৪৪৮ জনের ১ কোটি ৫ লাখ ৪৮ হাজার ১১০ টাকা, খুলনায় ২১ জনের ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬৬ টাকা, লবণচরায় ১৪ জনের ৩৮ হাজার ১৯৬ টাকা, পাইকগাছায় ২৯৫ জনের ১৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৬ টাকা, রূপসায় ৬২১ জনের ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা ও তেরখাদায় ২৪৯ জনের ২৩ লাখ ৫৫ হাজার ৫২০ টাকা। তবে, নির্বাচনের পূর্বের ১০ হাজার টাকার বেশি এবং নির্বাচন পরবর্তীতে খুলনা জোনের আওতায় ৫ জেলায় গত ৩০ জুন ঋণগ্রস্ত হয়েছে আরও ২ লাখ ৩ হাজার কৃষক। এই ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা। খুলনার রূপসা ইলাইপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ মিনার ছেলে মো. ছলেমান মিনা ১৯৯২ সালে ঋণ নেন ৬ হাজার টাকা। সুদ আসলসহ ১০ হাজার টাকা হলে ব্যাংকের চাপে ৫ হাজার পরিশোধ করার পর তার ঋণ স্থিতি ছিল ৫ হাজার ৩৮ টাকা। একই এলাকার সামছুর রহমান ১৯৯০ সালে এ শাখা থেকে ঋণ নেন ৭ হাজার টাকা। সুদ আসলসহ তার স্থিতি রয়েছে ১২ হাজার ১৭১ টাকা। তালিমপুর গ্রামের হাজী কুব্বাত আলীর ছেলে মোমিন উদ্দীন ১৯৮৯ সালে ঋণ নেন ৬ হাজার টাকা। বর্তমানে তার স্থিতি রয়েছে ১১ হাজার ৭৭৪ টাকা। তারা তিনজনই রূপসা উপজেলার কৃষি ব্যাংক পূর্ব রূপসা ঘাট শাখা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তিনজনই ঋণ মওকুফের আওতায় আসায় তাদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটেছে।

কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক উৎপল কবিরাজ জানিয়েছেন, কৃষি ব্যাংক কুষ্টিয়া জোনের আওতাভুক্ত মাগুরা, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ঋণ মওকুফের আওতায় আনা হয়েছে ২৬ হাজার ৫শ’ জন কৃষককে। তাদের ঋণের পরিমাণ ২০ কোটি ৪৭ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকা।

ব্যাংকের এই কর্মকর্তা বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া ৫ জেলার কৃষকদের তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে এসব কৃষকদের ঋণমুক্ত করে কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

ডিএসইর লেনদেন ছাড়াল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা

প্রায় ৪২ কোটি টাকার কৃষিঋণ থেকে মুক্তি পেলেন খুলনা বিভাগের কৃষকরা

আপডেট এর সময় : ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫৬ হাজার ৭৪৮ জন কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফ করা হচ্ছে। এছাড়া ঋণের অর্থ পরিশোধ না করায় যাদের নামে আদালতে মামলা হয়েছিল, তাদের মামলাও তুলে নেওয়া হয়েছে। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার মোতাবেক এসব ঋণ মওকুফ করা হচ্ছে।

কৃষি ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, কৃষি ঋণ মওকুফের আওতায় এসেছে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৫৬ হাজার ৭৪৮ জন। তাদের ঋণের অর্থের পরিমাণ ৪১ কোটি ৭৯ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকা। এর মধ্যে খুলনা মহানগর ও জেলার ১১ থানা ও উপজেলা এলাকায় ৬ হাজার ৭৬৭ জন কৃষকের ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৫.৯ টাকা মওকুফের আওতায় আনা হয়েছে।

নির্বাচনকালীন সময় পর্যন্ত যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ ছিল, তারা এই মওকুফের আওতায় এসেছে।

কৃষি ব্যাংক খুলনা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ঋণ গ্রহীতাদের মওকুফের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঋণের অর্থ পরিশোধ না করায় যাদের নামে আদালতে মামলা হয়েছিল, তাদের মামলাও তুলে নেওয়া হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় কৃষি ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এ ব্যাংকের জোনাল অফিসের আওতায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইল জেলায় ৩০ হাজার ২৪৮ জন কৃষককে ঋণ মওকুফের আওতায় আনা হয়েছে। যার অর্থের পরিমাণ ২১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

কৃষি ব্যাংক খুলনা জেলা অফিসের তথ্যমতে, খুলনা মহানগর ও জেলার ১১ থানা ও উপজেলা এলাকায় ৬ হাজার ৭৬৭ জন কৃষকের ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৫ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এরমধ্যে বটিয়াঘাটায় ১৮৩ জনের ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৫.৫ টাকা, দাকোপে ২৩৭ জনের ১৮ লাখ ১১ হাজার ৫৮ টাকা, দৌলতপুরে ৮৭ জনের ৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৫৫ টাকা, দিঘলিয়ায় ২২৮ জনের ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৮ টাকা, ডুমুরিয়ায় ২ হাজার ৭১১ জনের ১ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৫৫ টাকা, ফুলতলায় ৬৭৩ জনের ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩৩ টাকা, কয়রায় ১ হাজার ৪৪৮ জনের ১ কোটি ৫ লাখ ৪৮ হাজার ১১০ টাকা, খুলনায় ২১ জনের ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬৬ টাকা, লবণচরায় ১৪ জনের ৩৮ হাজার ১৯৬ টাকা, পাইকগাছায় ২৯৫ জনের ১৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৬ টাকা, রূপসায় ৬২১ জনের ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা ও তেরখাদায় ২৪৯ জনের ২৩ লাখ ৫৫ হাজার ৫২০ টাকা। তবে, নির্বাচনের পূর্বের ১০ হাজার টাকার বেশি এবং নির্বাচন পরবর্তীতে খুলনা জোনের আওতায় ৫ জেলায় গত ৩০ জুন ঋণগ্রস্ত হয়েছে আরও ২ লাখ ৩ হাজার কৃষক। এই ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা। খুলনার রূপসা ইলাইপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ মিনার ছেলে মো. ছলেমান মিনা ১৯৯২ সালে ঋণ নেন ৬ হাজার টাকা। সুদ আসলসহ ১০ হাজার টাকা হলে ব্যাংকের চাপে ৫ হাজার পরিশোধ করার পর তার ঋণ স্থিতি ছিল ৫ হাজার ৩৮ টাকা। একই এলাকার সামছুর রহমান ১৯৯০ সালে এ শাখা থেকে ঋণ নেন ৭ হাজার টাকা। সুদ আসলসহ তার স্থিতি রয়েছে ১২ হাজার ১৭১ টাকা। তালিমপুর গ্রামের হাজী কুব্বাত আলীর ছেলে মোমিন উদ্দীন ১৯৮৯ সালে ঋণ নেন ৬ হাজার টাকা। বর্তমানে তার স্থিতি রয়েছে ১১ হাজার ৭৭৪ টাকা। তারা তিনজনই রূপসা উপজেলার কৃষি ব্যাংক পূর্ব রূপসা ঘাট শাখা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তিনজনই ঋণ মওকুফের আওতায় আসায় তাদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটেছে।

কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক উৎপল কবিরাজ জানিয়েছেন, কৃষি ব্যাংক কুষ্টিয়া জোনের আওতাভুক্ত মাগুরা, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ঋণ মওকুফের আওতায় আনা হয়েছে ২৬ হাজার ৫শ’ জন কৃষককে। তাদের ঋণের পরিমাণ ২০ কোটি ৪৭ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকা।

ব্যাংকের এই কর্মকর্তা বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া ৫ জেলার কৃষকদের তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে এসব কৃষকদের ঋণমুক্ত করে কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হবে।