ঝালকাঠির পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার ঘণ্টার মাথায় পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) জরুরি তলবে ঢাকায় ফিরে গেছেন মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়া এবং ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পরই তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তাকে পুলিশের কোনো ইউনিটে পদায়ন না করে ‘ওয়েটিংয়ে’ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লাকে ঝালকাঠির এসপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী গত সোমবার (৭ জুলাই) বিকেলে তিনি ঝালকাঠিতে জেলা পুলিশ সুপারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে যোগদানের মাত্র চার ঘণ্টা পরই সন্ধ্যার দিকে আইজিপির জরুরি নির্দেশে তাকে ঝালকাঠি ছেড়ে ঢাকায় ফিরতে হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লার একটি কথোপকথনের অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। সিনিয়র সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অডিওটি প্রকাশ করে দাবি করেন, পুলিশ সুপার পদে এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়োগের পর অর্থ পরিশোধের কথা থাকলেও তা ঠিকমতো না হওয়ায় অডিওটি ফাঁস করা হয়েছে। তবে এই অডিও ও দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন ”আমার বদলি সম্পূর্ণ সরকারের সিদ্ধান্তে হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি। ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ডটি বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এটি ছড়ানো হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, দৈনিক দেশ রূপান্তরের ঢাকা অফিসের সাংবাদিক হামিদের সঙ্গে তার কথোপকথনের অংশবিশেষ বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ওই সাংবাদিক তার বদলির পেছনে নিজের ভূমিকা থাকার দাবি করলেও কার মাধ্যমে তা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
বর্তমানে নিজের অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, তাকে আপাতত ওয়েটিংয়ে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে কোন জেলায় বা পদে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই নাটকীয় তলব এবং ঘুষের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নাই।

শফিউল মঞ্জুর ফরিদঃ 



















